আশিকুর রহমান রনি: পঞ্চগড় প্রতিনিধি


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের নেতৃত্বে সোমবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে বিএনপির প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং তাদের হাতে তুলে দেন দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কারভিত্তিক রূপরেখা। বক্তারা বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মাঝে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে, বিএনপি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করে না, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, তারা এই রূপরেখা ও পরিকল্পনা পড়ে-জেনে দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নতুন ধারণা পেয়েছেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চাঁনপাড়া মন্দির মাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির বলেন, ‘‘বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই শান্তি, মর্যাদা ও সহাবস্থানের মধ্যে বসবাস করতে পারবে।’’ এই সভায় শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী বিএনপির পতাকাতলে যোগদান করেন। নতুন যোগদানকারীরা বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, দেশকে বর্তমান দুঃশাসন ও বৈষম্যমুক্ত করতে বিএনপির পরিকল্পনা ও নেতৃত্বই এখন জনগণের আশা। কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও গবেষক ব্যরিষ্টার নওফেল জমিরসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত বক্তারা বলেন, জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগই হলো পরিবর্তনের মূল শক্তি, আর এই লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি তারই অংশ। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের কাছে নতুন আশার বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়। দলটির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, ধারাবাহিকভাবে জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এমন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক “রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা” সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং পরিবর্তনের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে পারেন।