ইমন হোসেন ,,যশোর সদর


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ-ইনডিয়ান সৈনিক হিসেবে লড়াই করে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পদক পাওয়া যোদ্ধা কে কে সামছুদ্দিন বুধবার (২২ অক্টোবর) ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। যদিও সার্টিফিকেটে তার বয়স ১০১ বছর।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যশোর পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে নানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে গ্রামের বাড়ি যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছোট দোগাছিয়া তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সেনাসদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কে কে সামছুদ্দিন জীবদ্দশায় তার বড়মেয়ে জামাই প্রবাসী আবুল হুসাইনের যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোড (মাদ্রাসা মহল্লা) এলাকার বাড়িতে থাকতেন।

তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ছোট ছেলে ইব্রাহিম হাসান দোগাছিয়া গ্রামেই থাকেন, কৃষিকাজ করেন। বড় মেয়ে খাদিজা খাতুন, আরেক মেয়ে সালেহা আক্তার লাকি। বড় ছেলে গোলাম মোস্তফা ঢাকাতে থাকেন। স্ত্রী জাহেদা খাতুন গত হয়েছেন ১৯৯৯ সালে।   

সামছুদ্দিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ-ইনডিয়ান সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। সেই যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে পদক, সম্মান পান। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা পেতেন নিয়মিত।

২০২১ সালেও তিনি ছিলেন বেশ চটপটে। কিন্তু রোগেশোকে এখন একেবারেই কাহিল। এখন স্মরণশক্তি অনেক কমে গেছে, কথাও অস্পষ্ট। নাতিছেলে (বড়মেয়ের ছেলে) বোরহানউদ্দিনই তার দেখাশুনা করেন; তার ভাষা বোঝেন। মাস দেড়েক আগে ঘরের মেঝেতে পড়ে তিনি কোমরের হাড় ভেঙে যায়। 

সামসুদ্দিন পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়াবহতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীর সৈনিক ছিলেন। সেইসময়ের যুবক জার্মান-জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার করেছেন দুর্বিষহ সময়। সেইসময়ের এই বীরযোদ্ধা তার সাহসিকতার জন্যে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে পেয়েছেন পদক, সম্মান, ভাতা পেতেন নিয়মিত। কিন্তু ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তার সেইসব পদক, যুদ্ধদিনের স্মারক, ছবি- সবকিছু নষ্ট করে দেয় পাকিস্তানি হানাদাররা- জানান তার বড় ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা।

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫-এর পুরো সময়ই যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন কে কে সামছুদ্দিন। যুদ্ধ চলাকালে একবার সিঙ্গাপুরে তিন হাজার সহযোদ্ধাসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। ওই অবস্থাতেই তিন মাস যুদ্ধ চালিয়ে যান তারা।

অনেক সময় কেটেছে না খেয়ে। আত্মসমর্পণের আহ্বান উপেক্ষা করে তার ইউনিট জাপানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেছে। বিশ্বযুদ্ধের পরও সেনাবাহিনীর চাকরিতে ছিলেন সামছুদ্দিন।