চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নের এক স্বনামধন্য মুসলিম পরিবারে ১৯৫৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্ম নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা ও দানবীর ব্যাক্তিত্ব মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফা খোকন। পিতা মুন্সী নুরুল হুদা ও মাতা সামসুন নাহার বেগমের সন্তান খোকন বর্তমানে সন্দ্বীপ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি তিনি আলোচনায় আসেন লাশ ও গর্ভবতী নারীদের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে চট্রগ্রামের কুমিরা পারাপাড়ের জন্য ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক স্পিডবোট উপহার দেওয়ার মাধ্যমে।স্পীড বোর্ড মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ছাদ থাকায় ঝড়-বৃষ্টি রোদের সমস্যায় পড়তে হয় না, আছে ওয়াশরুমেরও ব্যবস্থা।
শুধু তাই নয়, গর্ভবতী ও লাশ পারাপারে সম্পূর্ণ খরচ তিনি নিজে বহন করছেন। প্রায় প্রতিদিনই গর্ভবতী নারী ও লাশ পারাপার করছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার পেট্রোল। এছাড়া দুই দিন আগে আরও একটি ৪০ লক্ষ টাকার স্পিডবোট দিয়েছেন। জানুয়ারিতে আরও পাঁচটি নতুন স্পিডবোট যোগ হবে, প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৮৫ লক্ষ টাকা।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে তিনি একটি ভাসমান জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে যাত্রীরা স্পিডবোট বা শিপ থেকে সরাসরি জেটিতে নামতে পারবেন—কাদা-মাটিতে না নেমেই। এই উদ্যোগ যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে কুমিরা গুপ্তছড়া নৌ রুটে।
রাজনৈতিকভাবে নুরুল মোস্তফা খোকন সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের জাগ দল থেকে তার রাজনীতির জীবন শুরু। তিনি উত্তর জেলা ও সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির বিএনপির সিনিয়র সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে ২য় জন হিসেবে বিএনপির মনোনয়নও পেয়েছিলেন। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুদান দিয়েছেন এবং উপজেলা বিএনপি অফিসের জন্য জমিও ক্রয় করেছেন।এছাড়াও বিগত ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে তিনি সহযোগিতা করেছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে প্রবাসীদের ভোটার অধিকার দেওয়ার জন্য আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। এই সরকার প্রবাসীদের ভোটের অধিকার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি বাংলাদেশ–আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের সভাপতি, কাতার বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।তিনি ইংরেজি, আরবি, হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, ইতালীয়, কোরিয়ান, চীনা ও বাংলা ভাষায় দক্ষ।
দেশে ও বিদেশে টানা ৪৬ বছরের কর্ম ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একাধিক সফল প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি ব্র্যান্ড মেকার প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড–এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পাশাপাশি মাহভীন ট্রেডিং অ্যান্ড কোং এবং এশা ট্রেডিং অ্যান্ড কোং–এরও স্বত্বাধিকারী।বিদেশে তিনি কাতারে নিউ ফিউচার কোং ডব্লিউ.এল.এল. এবং যুক্তরাষ্ট্রে ব্র্যান্ড গ্রুপ ইউএসএ ইনকর্পোরেটেড–এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোকন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (অটোমোবাইল) ডিগ্রিধারী। তিনি জার্মানির মার্সিডিজ বেঞ্জ, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরস (GM)–এ অটোমোবাইল বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই বিদেশি প্রশিক্ষণ তাঁর পেশাজীবনে এক নতুন মাত্রা এনে দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ও সমাজসেবার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নুরুল মোস্তফা খোকন সন্দ্বীপের শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত হয়েছে ২০০টিরও বেশি মসজিদ, ডজনখানেক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, ব্রিজ এবং অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি।
শিক্ষা খাতে তাঁর অবদানের মধ্যে রয়েছে সন্দ্বীপ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন প্রদান, দক্ষিণ সন্দ্বীপ কলেজ, মোমেনা সেকান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাঠগড় উচ্চ বিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানে ভবন ও বিজ্ঞানাগার নির্মাণে অনুদান।এছাড়া উখিয়ার নীলা এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
খোকন সন্দ্বীপের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও শ্মশানের সংস্কার ও পুনর্বাসনে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় ২০টি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করেন।কোভিড–১৯ মহামারির সময় তিনি ২৫ হাজার মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন।এছাড়া প্রতিবছর অসহায়, বিধবা ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, নগদ অর্থ ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।অসহায় নারীদের স্বনির্ভর করতে তিনি ১৫০ জন নারীকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দিয়েছেন।
৭০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার, মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, এবং রিকশা বিতরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব উদ্যোগ তাঁকে একজন প্রকৃত মানবসেবক হিসেবে পরিচিত করেছে।
২০১৩ সাল থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত এনআরবি গ্রুপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০০ জন কর্মচারী কাজ করেন, এবং পরোক্ষভাবে উপকৃত হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
সন্দ্বীপে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবারের জন্য তিনি নিজ খরচে ঘর নির্মাণ করেছেন।তাঁর নির্মিত ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের বাণিজ্যিক ভবনের আয় থেকে প্রতি বছর ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয় শিক্ষা, চিকিৎসা ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায়।
প্রবীণ এই উদ্যোক্তা ও দানবীরের অবদান সন্দ্বীপের প্রতিটি গ্রাম ও প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান।তিনি শুধু সফল ব্যবসায়ী নন, বরং একজন মানবদরদী সমাজপালক ও অনুকরণীয় নেতা।সন্দ্বীপের মানুষ তাই তাঁকে ভালোবেসে ডাকে দানবীর নুরুল মোস্তফা খোকন।
সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি