কপোতাক্ষ নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্যতম বৃহৎ নদ। বলা হয়ে থাকে, এ নদের পানি একসময় কপোত বা পাখির চোখের মতো স্বচ্ছ ছিল, তাই নদীর নামকরণ করা হয় ‘কপোতাক্ষ’। আবার শোনা যায়, দ্রাবিড়-পূর্ব জনগোষ্ঠীর ‘কবদাক’ শব্দটিই পরবর্তীতে সংস্কৃত ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে ‘কপোতাক্ষ’ নাম ধারণ করে।


মূলত নদটি ভৈরব নদের একটি শাখা। কুষ্টিয়া জেলার দর্শনা এলাকার কাছে ইছামতী নদী দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে এর একটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে, যা ভৈরব নদ নামে পরিচিত। কোটচাঁদপুরের দক্ষিণে ভৈরব নদ থেকে আরেকটি শাখা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছার কাছে শিবসা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই ভৈরবের শাখাটিই বর্তমানে কপোতাক্ষ নদ নামে পরিচিত।


তবে প্রকৃতপক্ষে কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। নদটি চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলা অতিক্রম করেছে। এর গতিপথে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে—চৌগাছা, ঝিকরগাছা, চাকলা ত্রিমোহনী, জীবননগর, কোটচাঁদপুর, সাগরদাঁড়ি, তালা, কুপিলমনি, বারুলী, চাঁদখালী, বড়দল, আমাদী ও বেদকাশী।


কপোতাক্ষ নদ শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদেশে অবস্থানকালে মাতৃভূমি ও শৈশবের স্মৃতিতে আপ্লুত হয়ে লেখেন "কপোতাক্ষ নদ" কবিতা টি।

তিনি লেখেন,

“ওহে আমার প্রিয় সোনার বাংলার স্রোতধারা,

কপোতাক্ষ! 

তোমার মৃদু কলধ্বনি আর ঝিলমিল আলো,

কতবার শৈশবের রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে

তোমার তীরে আমগাছের ছায়ায় খেলেছি।” তার এই লেখা টি রয়ে গেছে আজও।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক কপোতাক্ষ নদের পরিচিতি নম্বর হলো:- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ২৩৮। 



মো: জিত বাবু, মহেশপুর (ঝিনাইদহ্)