প্রতিবেদক শাহরিয়ার খান নাফিজ:

৩১ ডিসেম্বর রাত মানেই অনেকের কাছে উল্লাস, আতশবাজি আর ফানুশ উড়ানোর উৎসব। কিন্তু কিছু সময়ের এই আনন্দের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের যন্ত্রণা, প্রাণীর দুর্ভোগ এবং প্রকৃতির ক্ষয়।


২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় আতশবাজির বিকট শব্দে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৪ মাস ১৯ দিনের শিশু উমাইর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।  

এই মর্মান্তিক ঘটনা আতশবাজির নেতিবাচক প্রভাবের এক বাস্তব উদাহরণ।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজির বিকট শব্দে শিশু, হৃদরোগী, হাঁপানি ও বয়স্করা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। শুধু ২০২৫ সালেই আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে শিশুসহ ৪ জন আগুনে দগ্ধ হন।


২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফানুশ উড়ানো থেকে সৃষ্ট আগুনে ৩০০-রও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বাড়িঘর পুড়ে গেছে, মানুষ আহত হয়েছে, প্রাণহানি ঘটেছে।


আতশবাজি ও ফানুশের প্রভাবে প্রাণীকুলও ভয়াবহ সমস্যায় পড়ে। ২০২৪ সালে ঢাকায় আতশবাজির শব্দে প্রায় ১০০টির বেশি পাখির মৃত্যু হয়। পোষা প্রাণী এবং বনের জীবজন্তুরাও ভয়াবহ শব্দদূষণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।


পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “উদযাপন হোক তবে তা হোক দায়িত্বশীল ও নিরাপদ। এমন কিছু নয় যা অন্য কারো জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে।” দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই উদযাপন হয়ে উঠতে পারে ভয়ানক বিপদের কারণ যার দায় নিতে হবে আমাদের সবাইকেই।

একদিকে যখন কেউ নববর্ষে আনন্দে মেতে উঠছে, অন্যদিকে অনেকেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর বঞ্চনার অন্ধকারে। এই বৈষম্য ভুলে আমাদের বলতে হবে—  

“মুক্তিকামী মানুষের জয় হোক, জয় হোক মেহনতীর।”

নতুন বছর হোক সহানুভূতি, সংহতি ও মানবতার বার্তা নিয়ে।