রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রক্টরীয় ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। প্রকাশের পর পরই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উঠেছে আপত্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে করেছেন সমালোচনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই কম্পিউটার ক্লাবের সাধারন সম্পাদক শাহবাজ বিন সিরাজ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে লিখেন, "বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত ছিল সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি, মুক্তচিন্তা, শিল্প আর সাহিত্য চর্চার কারখানা। তা না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আজ স্রেফ একটা 'স্ট্রাকচারাল বিনোদন কেন্দ্র' হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বহিরাগত আর চাকরিজীবীদের মনে প্রশান্তি দিলেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাদ দিচ্ছেনা।"
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম দ-নং ধারার সমালোচনা করে লিখেন, "দ- নং অনুচ্ছেদে শুধু কর্মকর্তা, শিক্ষক, এবং কর্মচারীদের পক্ষে লেখা হয়েছে,তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায় হলেও সেখানে শিক্ষার্থীরা চুপ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে আইন বানাবে সেটা আমরা মেনে নিব না।"
ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান লিখেন, "শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অথচ সেই ব্যর্থতাগুলো সমাধানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত ও একতরফা নিয়ম আরোপ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "রাবিপ্রবিতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ। তবে নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। এই অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম টা কিভাবে গঠিত হবে তার কোন যথাযথ ব্যাখ্যা নেই।"
এ ব্যাপারে রাবিপ্রবি প্রক্টর সাদ্দাম হোসেন শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে লিখেন, "যেকোন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে কিছু শৃঙ্খলা নীতিমালা বা নিয়ম কানুন সূচনালগ্ন থেকে কাগজে কলমে থাকতে হয়। সব কিছুর প্রয়োগ যে কঠোরভাবে হয় তা কিন্তু না। রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরাও তার বিকল্প নয়। আশা করি বিষয়টি আমি ক্লিয়ার করতে পেরেছি।
প্রক্টর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, "এসব নীতিমালা মাঝে মাঝে যৎসামান্য রিভাইস করার সময় মতামতের জন্য বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিও রাখা হয় এবং কমিটি প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় এই নীতিমালা সংশোধন করতে পারবে।"