পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় পিতা-পুত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বেলাল হোসেন (৪১) ও তার ছেলে নয়ন (১৯)। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানান, চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় কুমার রায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. সঞ্জয় কুমার রায়। ওই সময় সদর উপজেলার রাজনগর এলাকার মশিউর রহমানের মেয়ে জিমি আক্তার (১৮) চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।
বিকেলের দিকে জিমি আক্তারের শ্বশুর বেলাল হোসেনসহ ১০-১৫ জন লোক উত্তেজিত অবস্থায় জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে। এ সময় বেলাল নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবি করে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডা. সঞ্জয় কুমার রায়ের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন ১৭ এপ্রিল হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক বদিউজ্জামান বাদী হয়ে বেলাল ও নয়নসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত বেলাল হোসেন সদর উপজেলার ঝিটকিকুড়া এলাকার গিয়াস উদ্দীনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রোগীর অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
--------------------
(আশিকুর রহমান রনি / পঞ্চগড় প্রতিনিধি)