পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা চালু করা হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এখনো এমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন সীমিত পরিসরে চলাচল করা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো ঈদের সময় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহার না করা প্রশাসনিক অনাগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে প্রশাসন ও ছাত্রসংসদ যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে রাবিতে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশেষ বাসসেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বাস বা বিশেষ ট্রিপ চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান মনে করেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাকসুর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “রাবির বাস বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহারের অনুমতি পেলেও শিক্ষার্থীদের ঈদযাত্রার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনীহা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রাকসু গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।”
একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী আওয়াল রাসেলও। তার ভাষ্য, “এটা এমন কোনো দাবি ছিল না, যা বাস্তবায়ন করা কঠিন। ইচ্ছা থাকলে প্রশাসন ও রাকসু সহজেই উদ্যোগ নিতে পারত। অথচ রাবির বাসসেবা সাধারণ সময়েও সীমিত, ঈদের সময়ও সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।”
শিক্ষার্থী রকিব রাফসান বলেন, “দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে রাবি অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের চেয়ে অন্য বিষয়গুলোই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।”
তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার। তিনি জানান, বিভাগীয় শহরগুলোতে বাস চালুর বিষয়ে রাকসুর পক্ষ থেকে পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রাজশাহীর বাইরে বাস চলাচল সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
তিনি বলেন, “ভিসি স্যার দেশের বাইরে থাকায় এক্টিং ভিসির কাছে অনুমতির আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি জ্বালানি ব্যয়ও রাকসুর পক্ষ থেকে বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং ভিসি দেশে ফিরলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
--------------------------------
(আবির মুবিন / রাবি প্রতিনিধি)