পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শাহাদাত হোসেন বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কেরামত আলীর ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি স্থানীয়ভাবে ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলেও তিনি ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে ভুট্টা বোঝাই ট্রাক্টরটি একটি ফসলি জমি অতিক্রম করার সময় নরম মাটিতে আটকে যায়। ট্রাক্টরটি ওঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দরকার হলে বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় শাহাদাত একটি বেলচা আনতে নিজ বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ করে শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি।
বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাদাত ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পরিবারের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ফসলি জমি ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
--------------------------------
(আশিকুর রহমান রনি / পঞ্চগড় প্রতিনিধি)