হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত প্রথমরেখ মহল্লার প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের একমাত্র ভরসার এই সড়কটি বর্তমানে কাদা-পানিতে ভরে গিয়ে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকার শত শত মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক ও সাধারণ জনগণ চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার এমন নাজুক অবস্থার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, আর ভারী বর্ষণে তা রীতিমতো ছোটখাটো জলাশয়ে রূপ নেয়। হাঁটুসমান কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারছে না এবং তাদের চরম কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এই সড়ক বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ রোগী কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, অনেক সময় রোগীকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে পরিবহন করতে হয়, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে কৃষিজীবী মানুষদের জন্যও এই সড়কের অবস্থা মারাত্মক সমস্যা তৈরি করেছে। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে তাদের বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিবহন সংকটের কারণে তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ ও উত্তেজনার কারণে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ বারবার ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাস্তার জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত বছর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।
তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়নি। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
বর্তমানে প্রথমরেখ মহল্লার বাসিন্দারা দ্রুত এই বিরোধ নিরসন এবং সড়কটির সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ এবং সদিচ্ছা থাকলে খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিবে। একটি টেকসই ও ব্যবহারযোগ্য সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, এমন প্রত্যাশাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
------------------------------
(শাহরিয়ার খান নাফিজ / হবিগঞ্জ প্রতিনিধি)