রাজশাহী মহানগরীতে সম্প্রতি অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন রুটে আগে যেখানে ৫ টাকার ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে এখন ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। কোনো পূর্বঘোষণা, গণশুনানি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি জনজীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

জনদুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই অতিরিক্ত ভাড়া বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষ বলছেন, আয় না বাড়লেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যাত্রীদের দাবি: যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হোক

সচেতন নাগরিকদের মতে, যেকোনো পরিবহন ভাড়া নির্ধারণে প্রশাসনের অনুমোদন, জনস্বার্থ বিবেচনা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। হঠাৎ করে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় সাধারণ মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করছে।তারা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রাজশাহীর নাগরিক সমাজ মনে করছে, নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।জনগণের স্বার্থ সবার আগে। অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ হোক, নিশ্চিত হোক সবার জন্য ন্যায্য ও সহনীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা।

-------------------------------
ঈশান মাহমুদ / এনবিআইউ প্রতিনিধি