পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে এক তরুণকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী দাবি করা রেহেনা বেগম উর্মি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু।
লিখিত অভিযোগে রেহেনা বেগম উর্মি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তিনি সহায়তার আশায় তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং এর বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দরকষাকষির পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং অবশিষ্ট অর্থ চাকরিতে যোগদানের পর দেওয়ার কথা জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার (২৯ জুন) সকালে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুর বদলির খবর জানতে পেরে রেহেনা বেগম তার দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে ইউএনও অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাকে চিনেন না বলে জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে রেহেনা বেগম ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভে প্রচার করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
রেহেনা বেগমের দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি অপমানিত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউএনও তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক করার ভয়ভীতি দেখান এবং তার ছোট ছেলেকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। ধারদেনা করে দেওয়া অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, "অভিযোগকারী নারীকে আমি চিনি না এবং তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা বা কথা হয়নি। বিষয়টি আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি যে নিয়োগের কথা বলছেন, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও জমা পড়েনি।"
----------------------------------
আশিকুর রহমান রনি / পঞ্চগড় প্রতিনিধি