ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুর থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় সহপাঠীরা ইয়াসিরকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বৃষ্টিতে ফুটবল খেলার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী পুকুরে সাঁতার কাটতে নামলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, “খেলা শেষে আমরা কয়েকজন পুকুরে নামি। ইয়াসিরসহ তিনজন এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে সাঁতরে যাচ্ছিল। অন্য দুজন ওপারে পৌঁছালেও ইয়াসির শেষ দিকে এসে ধীরে ধীরে ডুবে যেতে থাকে। প্রথমে আমরা বিষয়টি মজা ভেবেছিলাম। পরে বুঝতে পেরে সবাই মিলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করি।”
ইয়াসিরের বন্ধু আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ বলেন, “আমরা একসঙ্গে সাঁতার কাটছিলাম। একপর্যায়ে ইয়াসির মাঝপুকুরে গিয়ে হঠাৎ শক্তি হারিয়ে ডুবে যায়। প্রায় এক মিনিট পানির নিচে ছিল। আমি চিৎকার করলে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এসে দড়ির সাহায্যে তাকে উদ্ধার করে। পরে আমরা দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে যাই।”
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাকিয়া বলেন, “তাকে সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শরীর থেকে পানি বের করা হয়। এরপর তার জ্ঞান ফিরে আসে। তবে আমাদের এখানে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় এবং তার শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।”
উল্লেখ্য, গেল বছরের ১৭ জুলাই একই পুকুর থেকে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
-----------------------------------
মোহাম্মদ সবুজ / ই.বি. প্রতিনিধি